ওজীহুল্লাহ সন্দ্বীপী

ওজীহুল্লাহ সন্দ্বীপী (উর্দু: مولانا وجيه الله سندويپى) (মৃত্যু: আনু.১৯২০) একজন ইসলামিক বক্তা এবং বাংলাদেশি মুহাদ্দিস[lower-alpha 1] ছিলেন। তিনি সন্দ্বীপ থেকে প্রথম ব্যক্তি হিসাবে ভারতের সাহারানপুর জেলার দারুল উলুম দেওবন্দে পড়াশুনা করেছেন।[1]


ওজীহুল্লাহ সন্দ্বীপী

সাহেব
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম
মৃত্যু১৯২০ (আনুমানিক)
ধর্মইসলাম
জাতীয়তা ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমান বাংলাদেশ)
আখ্যাসুন্নি
শিক্ষালয়হানাফি
আন্দোলনদেওবন্দি
শিক্ষাদারুল উলুম দেওবন্দ
মুসলিম নেতা
শিক্ষকমাহমুদ হাসান দেওবন্দি
হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ

জন্ম ও শিক্ষা

ওজীহুল্লাহ আধুনিক বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার একটি বাঙালি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[2] হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে পড়াশোনা শেষ করার পরে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে ভর্তি হন, যেখান থেকে দেওবন্দী আন্দোলনের উদ্ভব ঘটে।

তিনি মাহমুদ হাসান দেওবন্দীর অধীনে হাদীস অধ্যয়ন করেছিলেন, যিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রথম ছাত্র ছিলেন।[2] ওজীহুল্লাহর সহপাঠীদের একজন ছিলেন আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি[2] কথিত আছে যে তিনি যখন ছাত্র ছিলেন তখন এই দুই সহপাঠীরা মেধাতে একে অপরকে পরাজিত করতে প্রতিযোগিতা করত। কাশ্মীরি যদি এক পরীক্ষায় প্রথম হতেন, তবে অন্য পরীক্ষায় ওজীহুল্লাহ প্রথম থাকতেন। শেষ পর্যন্ত দুই সহপাঠীর প্রতিভা পরীক্ষা করতে একটি সহিহ বুখারী শরীফ মুখস্থ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে ওজীহুল্লাহ এক রাতে একটি সম্পূর্ণ পারা মুখস্থ করেছিলেন এবং কাশ্মীরি কিছু কম করেছিলেন। মুখস্থ করার ক্ষেত্রে তার অত্যন্ত দ্রুত প্রতিভার কারনে জিন কা বাচ্চা (অনু.জিনের সন্তান) উপাধি অর্জন করেছিলেন।

কর্মজীবন

বাংলায় ফিরে আসার পর তিনি কয়েকদিন নোয়াখালী আহমদিয়া মাদ্রাসায়[lower-alpha 2] শিক্ষকতা শুরু করেন।[2][3] অতপর তিনি ইসলামি বক্তৃতায় মনোনিবেশ করেন। তিনি অধিকাংশ সময় বিভিন্ন বিতর্কে অংশগ্রহণ করতেন।[2]

কথিত ছিল যে ওজীহুল্লাহ দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে ফিরলেও, বাংলায় তিনি সেই দেওবন্দপন্থী শিক্ষা প্রচার করতেন না। সম্ভবত তিনি প্রচলিত বেদআতগুলির সাথে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, যেমন ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন। শুধু তা ন​য়, তিনি এই প্রচলনগুলোও পালন করতেন। সেই সময়ে মর্দে মুজাহিদ খবিরুল হক সমস্ত বিদআতের একজন খ্যাতনামা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। উনি ও উনার আহলে হক দলটি ওজীহুল্লাহর সাথে একটি বিতর্কে লিপ্ত হলেন। আহলে হক এই বিতর্কে জয় করলেও, ওজীহুল্লাহ তার মতামত ছাড়লেন না এবং কথিত ছিল যে উনি সারা জীবন মতামত অনুযায়ী জীবনযাপন করেছেন।

ওজীহুল্লাহর স্ত্রী যখন মারা গেলেন, খবিরুল হক জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলেন। জানাজা নামাজের ইমামতী করতে ওজীহুল্লাহ হুজুর খবীরুল হকের নাম ঘোষণা করেছিলেন। মিলাদের পক্ষে যেসব আলেমরা হাজির ছিলেন, এই এলানের ফলে তাদের মধে একটি আলোড়ন উঠলো। ভক্তদের মধ্যে গুজব ছড়ালো যে ওজীহুল্লাহ হুজুর এমন একজন যে সারা জীবন নিজের সাথেই বিতর্কে লিপ্ত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর, ওজীহুল্লাহ তার প্রসিদ্ধ উক্তি করেন:

নামেও হক, কাজেও হক, তাঁর নাম আল্লামা খবীরুল হক

প্রতিক্রিয়ায়, সেই দিন মিলাদ-পক্ষী আলেমরা কষ্ট-দুঃখে মাথা নামালেন সন্দ্বীপী হুজুরের এই এলানের কারণে, এবং আজ পর্যন্ত তারা তাদের মাথাগুলো উঠাতে পারছেন না।[4]

মৃত্যু এবং উত্তরাধিকার

ওজীহুল্লাহ আনুমানিক ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে মারা যান।[2] ওজীহুল্লাহ সন্দ্বীপীকে নিয়ে নভেম্বর ২০১৭ সালে একটি জীবনী-রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। [5]

আরও দেখুন

টীকা

  1. হাদিস বিষয়ে পণ্ডিত ব্যক্তি
  2. আহমদিয়া আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত নয়

তথ্যসূত্র

  1. আহসান সাইয়েদ, ড. (২০০৬)। বাংলাদেশে হাদিস চর্চা উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ। ১৯ সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০: অ্যাডর্ন পাবলিকেশন। পৃষ্ঠা ১৭৭। আইএসবিএন 9789842005602।
  2. মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজমী (২০১৪-০৫-০৮)। "2.2 বঙ্গে এলমে হাদীছ"। হাদীছের তত্ত্ব ও ইতিহাসজামায়াত অনলাইন লাইব্রেরি। এমদাদিয়া লাইব্রেরী। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-০৪
  3. Muḥammad ibn 'Abd Allāh al-Khaṭīb al-Tibrīzī (১৯৬৬)। মেশকাত শরীফ। এমদাদিয়া লাইব্রেরী। পৃষ্ঠা 271।
  4. Khofi, Kateb (৬ জুন ২০২০)। মাশায়েখে সন্দ্বীপ
  5. Muhibbi Platform। "সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখন"। Monthly Kurimukul

গ্রন্থপঞ্জি

This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.